সবুজে মোড়া বিস্তীর্ণ হাওর ক্রমেই বর্ণ হারাচ্ছে। হয়ে উঠছে সোনালী সাগর। কৃষকের মুখে ফোটছে হাসি। বৈশাখের শুরু থেকেই শুরু হলো ধান কাটা, ফসল মাড়াই আর কৃষকের ব্যস্ততা।
হাওর জুড়ে দখিনা বাতাসে দোল খাচ্ছে কাঁচা, পাকা ধানের শীষ। মাঠের পর মাঠ ব্যস্ত হয়ে উঠছে কৃষকরা। এবার ফলন ভালো হওয়ায় আশায় বুক বেঁধেছে সুনামগঞ্জের হাওরের কৃষকরা।
প্রকৃতি বৈরি না হলে সুনামগঞ্জে এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৫ হেক্টর এবং সমতলে ৫৮ হাজার ২৩৬ হেক্টর জমি রয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে লক্ষ্যমাত্র অনুযায়ী সব ধান কৃষকের গোলায় উঠলে জেলায় বুরো মৌসুমে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপাদন হবে।
তবে কিছু আশঙ্কার ব্যাপারও আছে। মার্চের শিলাবৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩ হাজার ৩১০ হেক্টর বুরো ধানের জমি তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতিও হয়েছে। সেক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা কতটুকু অর্জিত হবে তা এখনও বলা সম্ভব হচ্ছে না।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, সব ধান ঘরে তুলতে পারলে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মৌসুমের শুরুতেই কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। গত মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শিলা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় জেলার ৩ হাজার ৩১০ হেক্টরের বেশি জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কৃষকরা জানিয়েছে হাইব্রিড ও উন্নত জাতের ধান শতাংশ প্রতি ২০-২৫মণ। অপরদিকে দেশি আগাম জাতের ধান উৎপাদন হচ্ছে ১০-১২ মণ। আবহাওয়া ভালো থাকলে ক্ষতির পরও সন্তোষজনক ফলন হবে বলে আশাবাদী তারা।
সবকিছু ঠিক থাকলেও শ্রমিক ও কারিগরি সহায়তার অভাবে শঙ্কা যেনো কাটছেই না। এ সময় শ্রমিকের চাহিদা সবসময় মিটে না। তাই দিন দিন চাহিদা বাড়ছে হারভেস্টার যন্ত্রের।
সব আনুকূল্য আর প্রতিকূলতার মধ্যেও জেলার জগন্নাথপুর, শাল্লা, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন হাওরে শুরু হয়েছে আগাম ধান কাটা।















