রোদ ফিরেছে। ফিরেছে কৃষকের মনে স্বস্থি। গত দুই দিন কোন বৃষ্টিপাত না থাকায় মাড়াই করা হাওরের ধান শুকাতে ব্যস্থ সময় পার করছেন হাওরের কৃষকরা। রাস্তাঘাট, ময়দান, খেলার মাঠ সবখানেই ধান সংগ্রহ করছেন তারা। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পানি কমেছে।
খালিয়াজুড়ির হাওরাঞ্চলে অতিবৃষ্টিতে ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে কৃষকের। অনাকাঙ্খিত বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে পাকা ধানের ক্ষেত। বৃষ্টির আগে কেটে রাখা ধানেও বৃষ্টিতে ভিজে চারা গজিয়েছে। খালিয়াজুড়িতে মোট উৎপাদি হাওরের ধানের একটি বড় অংশ এভাবেই নষ্ট হয়ে গেছে।
তবে দুদিন আগে থেকে রোদ ফিরে আসায় মাট, ঘাট, বাড়ির আঙিনা ও সর্বত্র কমচাঞ্চল্য ফিরেছে কৃষকদের মাঝে। পরিবারের ছোট বড় সবাই মিলে সংগ্রহ করছেন ধান। মাঠে ফিরেছেন কৃষকরা। হাওরের খুব কম পরিমাণে বেচে যাওয়া জমির ধান কাটতেও ব্যস্ত তারা।

মাঠে ঘুরে দেখা গেছে প্রতি একরে কৃষকের খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। তবে এতদিন রোদ না থাকায় বেশিরভাগ হাওরের ধানই চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন রোদ ফিরলেও সব ধান শুকানো যাবে না বলে আক্ষেপ করছিলেন মাঠের কৃষক জহির উদ্দিন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে ইতোমধ্যেই বিপুল পরিমাণ হাওরের ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সম্প্রতি রোদ উঠায় তা কৃষকের জন্য অনেক সহায়ক হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, এ বছর খালিয়াজুরী উপজেলায় ২০ হাজার ২৩২ হেক্টর জমিতে বেরো আবাদ করা হয়েছিলো। অতিবৃষ্টিতে প্রায় ৪০ শতাংশ পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
গত দুই দিন বৃষ্টিপাত কমে আসায় কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন নদীর পানিও কমতে শুরু করে। কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর মো. সাজ্জাদ হোসেন জানিয়েছে, জেলার ইটনা পয়েন্টে ধন-বৌলাই নদীর পানি কমেছে ৩.২৮ মিটারে নেমেছে, যা আগের দিনের তুলনায় দুই সেন্টিমিটার কম।
চামটাঘাটে মেঘনা ও নিকলীর গোড়াউত্রা নদীর পানি রয়েছে ২.৯৫ মিটার, আগের তুলনায় কমেছে এক সেন্টিমিটার। ভৈরব বাজারে মেঘনা নদীর পানি কমে ১.৬৪ মিটারে দাঁড়িয়েছে। এখানে পানি সাত সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।
অপরদিকে অষ্টগ্রামের কালনী নদীর পানি বেড়ে ২.৬৫ মিটারে পৌঁছেছে। এখানে পানি তিন সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে জেলার সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রোদ থাকলে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে যতটা ক্ষতি কৃষকের হয়েছে তার কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশাবাদী হাওরের কৃষকরা।















