• Home
  • ফিচার
  • কী কী দেখবেন কিশোরগঞ্জ হাওরে?
JangalBari

কী কী দেখবেন কিশোরগঞ্জ হাওরে?

প্রকৃতির অপার্থিব সৌন্দর্য আর রূপের লীলাভূমি হাওর। সারা বছর ঋতু ও সময়ের ব্যবধানে রূপ বদলায়। হাওর। কিশোরগঞ্জ হাওর ঘুরতে আসলে কথাটি অবশ্যই মাথায় রাখতেই হবে। বছরের ৬ মাস জলমগ্ন আর ৬ মাস সবুজের বুকে ফুটে থাকা দ্বীপগ্রামগুলো সবসময়ই আপনাকে কাছে টানবে।

জল ও স্থলের মিশেলে হাওরের বিচিত্র জীবনের স্বাদ ক্ষণে ক্ষণে বদলায়। হাওরে রূপের বৈচিত্রতার সাথে আছে নানা দর্শনীয় পুরাকীর্তি ও কীর্তিমান। পর্যটন মানচিত্রে নিকলী হাওর এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে শুধু ভ্রমণই করা যায় না। জীবনকে খুব কাছে থেকে দেখতে হলে কিশোরগঞ্জের হাওরে ঘুরতে আসতেই হবে।

হয়তো ভাবছেন হাওরে এমন কি আছে? যা আছে তা দেখে শেষ করতে অন্তত ৬ মাস সময় তো লাগবেই। হাওর কথা বলে, হাওরের অনেক আবেদন আছে, আছে আকুতি। সম্ভাবনাময় কিশোরগঞ্জের হাওরের পর্যটকপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

কী দেখবেন কিশোরগঞ্জের হাওরে?

কিশোরগঞ্জের হাওর বলতেই জেলার সব উপজেলাকে বুঝায় না। নিকলী হাওরের প্রবেশদ্বার নিকলী, বাজিতপুর, ‍তাড়াইল, করিমগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামকে ঘিরের কিশোরগঞ্জের হাওর। এসব উপজেলায় ‍ঘুরার মতো, দেখার মতো অনক উল্লেখযোগ্য স্থান আছে। আছে ইতিহাস ও বর্তমানের আবেদন। এক এক করে সবই বলছি।

​নিকলী হাওর

নিকলী হাওর কিশোরগঞ্জের এক বিষ্ময়। বর্ষা এবং শুকনো দুই মৌসুমেই নিকলী হাওর সমান সুন্দর। বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলরাশি আপনার মনকে নি:সন্দেহে অনেক বড় করে দেবে। দিনরাত ভাসতে পারেন জলের উপর। কোথাও কোথাও জলকেলি করতেও নেমে পড়তে পারাবেন। যদি সাঁতার না জানেন তবে অবশ্যই সাবধানে থাকবেন। সেক্ষেত্রে জল থেকে একদমই নামা উচিত হবে না। অবশ্যই ব্যবহার করতে লাইভজ্যাকেট।

জলে ঘুরাঘুরি ছাড়াও চন্দ্রনাথ গোসাইয়ের আখড়া, গুরুই মসজিদ, ব্রিটিশদের পাটের গুদাম। বর্ষা ছাড়াও কৃষকদের জীবনযুদ্ধ খুব কাছে থেকে দেখতে আসতে হবে শুকনো মৌসুমের নিকলী হাওরে।

মিঠামইন হাওর

মিঠামইন কিশোরগঞ্জ হাওরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা। সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের বাড়ি এই উপজেলায়। তার বাড়ির পাশেই উপজেলার জিরো পয়েন্ট। এই পয়েন্ট ধরেই হাওরের বুক চিরে বয়ে গেছে পিচঢালা পথ। এই পথই জেলার বিচ্ছি তিন উপজেলা ইটনা, মিঠামইন আর অষ্টগ্রামকে যুক্ত করেছে এক সুতোয়।

দেখার মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা হলো দিল্লির আখড়া। সাড়ে চারশ’ বছরের পুরনো এই আখড়ায় মিলবে ইতিহাসের অনেক বাস্তবতা।

অষ্টগ্রাম হাওর

হাওরের রানী অষ্টগ্রাম। কেন আসবেন অষ্টগ্রামে? অন্য উপজেলাগুলোর মতো অষ্টগ্রামও জলবেষ্টিত একটি উপজেলা। তবে এর বিশেত্ব হলো সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার লাগুয়া হওয়ায় তাদের সংস্কৃতিতে সিলেটের ছাপ পাওয়া যায়। এই উপজেলায় আছে সুলতানি আমলের কুতুব শাহ মসজিদ। এছাড়া  অষ্টগ্রামের পনির বাংলাদের সেরা পনির। এই পনির দেশের সীমা ছাড়িয়ে রপ্তানি হচ্ছে দেশের বাইরে। কিশোরগঞ্জ হাওরে ঘুরতে আসলে অষ্টগ্রামের পনির একদমই মিস করা যাবে না।

হাওর উপজেলাগুলো ছাড়াও কিশোরগঞ্জের অন্যান্য উপজেলায় ঘুরে দেখার মতো আরও অনেক কিছুই আছে।

ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ খুবই বিখ্যাত একটি মসজিদ। আগে তত আলোচনায় না থাকলে দানবাক্সের টাকার পরিমাণ প্রকাশিত হওয়ায় দেশজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায় মসজিদটি। তবে এছাড়াও মসজিদের আলাদা কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। মসজিদে মানত করেন দেশের নানা প্রান্তের মানুষ। প্রতি শুক্রবারেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে গভীর আস্থা নিয়ে আসেন দর্শনার্থী। তারা এখানে নামাজ আদায় করে মানত সম্পন্ন করেন।

মসজিদটি তিন তলা বিশিষ্ট মিনার এবং বিশাল গম্বুজ স্থাপত্যের এক অনবদ্য উদাহরণ।

শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ

​উপমহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ঈদ জামাতের একটি অনুষ্ঠিত হয় শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। ১৮২৮ সালে প্রথম বড় জামাত আয়োজনের মাধ্যমে এই ঈদগাহের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। এটি উপমহাদেশের অন্যতম বৃহত্তম ঈদগাহ ময়দানগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃত। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এই ময়দানটি কেবল ধর্মীয় কারণে নয়, এর বিশালতা এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও একটি দর্শনীয় স্থান। শোলাকিয়ায় প্রতি বছর লাখো মুসল্লির মিলনমেলায় পরিণত হয়।

জঙ্গলবাড়ি দুর্গ (বীর ঈশা খাঁর রাজধানী)

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি দুর্গ ইতিহাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায়। বাংলার বারো ভূঁইয়াদের প্রধান বীর ঈশা খাঁর এক সময়ের রাজধানী ছিলো এই দুর্গ। এখানে বসেই শাসনকার্য পরিচালনা করতেন তিনি। এখানে রয়েছে মোগল স্থাপত্যশৈলীর একটি মসজিদ ও তার বাসভবন। ভবনের সামনে বিশাল পরিখা রয়েছে। পাশেই রয়েছে তার পারিবারিক কবরস্থান।

কবি চন্দ্রাবতীর শিব মন্দির

চন্দ্রাবতী! বাংলাদেশের প্রথম মহিলা কবি হিসেবেই তিনি বেশি পরিচিত। সদর উপজেলার নীলগঞ্জ এলাকায় ফুলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দিরটি। এই মন্দিরটি মধ্যযুগীয় বাংলার একটি স্থাপত্য নিদর্শন।

স্থাপত্যশৈলীতে এই মন্দিরটি অনন্য। ষোড়শ শতাব্দীর স্থাপত্যশৈলীতে আটচালায় নির্মাণ করা হয় এই মন্দিরটি। মন্দিরের দেয়ালে থাকা টেরাকোটা থেকে তৎকালীন ইতিহাস ঐতিহ্যের গন্ধ পাওয়া যায়। নান্দনিক এসব শিল্পকর্ম পর্যটক ও গবেষকদের সমানভাবে আকর্ষণ করে।

Releated Posts

দিল্লির আখড়া: সাড়ে চারশ’ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী

ইতিহাস সময়ের এক দর্পন। এই দর্পনের সামনে দাঁড়িয়েই আমরা দেখি ঐতিহাসিক বাস্তবতা। বাংলার সমৃদ্ধ ইতিহাস ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে…

অষ্টগ্রামের বিখ্যাত পনির

সময়টা মোগল শাসনামল। কিশোরগঞ্জের হাওর জনপদ অষ্টগ্রাম। মূল ভূখণ্ডে দত্তপাড়া নামে একটি বসতি অঞ্চল ছিল। বিস্তৃর্ণ হাওরের গবাদিপশু…

কিশোরগঞ্জ হাওরের ইতিকথা

উজান-ভাটির মিলিত ঐশ্বর্যে বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রকৃতির এক সমৃদ্ধ জেলা কিশোরগঞ্জ। ১৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা বিভাগের এই জেলা অনেক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *