অনৈতিকভাবে ভিজিএফ কার্ড না দেয়ায় নেত্রকোণায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে হুমকি দিয়েছেন এক ছাত্রদল নেতা। মঙ্গলবার (২৬ মে) এ বিষয়ে থানা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ইউপি চেয়ারম্যান। পূর্বধলা থানার ওসি অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গণমাধ্যমকে।
উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আকন্দ (খোকন)। তার কাছে অনৈতিকভাবে ৪১৫টি ভিজিএফ কার্ড দাবি করেন জেলা ছাত্র দলের সাবেক সহসভাপতি আফতাব উদ্দিন সোহাগ। নিয়ম বহির্ভূত কার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানালে চেয়ারম্যানকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন সোহাগ।
সোমবার (২৫ মে) এমনই একটি কল রেকর্ড স্থানীয়ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় হয়। পরে মঙ্গলবার বিকেলে পূর্বধলা থানায় সোহাগের বিরুদ্ধে একটি জিডি দায়ের করেন চেয়ারম্যান। সোহাগ একই ইউনিয়নের কালিহরকান্দা গ্রামের মো. আশরাফ উদ্দিন সরকারের ছেলে।
থানার কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জিডির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আকন্দ খোকন সাংবাদিকদের বলেন, গত রোববার সকালে আফতাব উদ্দিন সরকার সোহাগ অনৈতিকভাবে তার কাছে ৪১৫টি ভিজিএফ কার্ড দাবি করে। চেয়ারম্যান দিতে অস্বীকার করলে সোহাগ তাকে অপমান করে।
এ দিনই রাত ১১টায় কার্ড না দেয়ার কারণ জানতে চেয়ে চেয়ারম্যানের ফোনে কল করেন সোহাগ। কার্ডের বিষয়ে চেয়ারম্যান সোহাগকে জানান, উপজেলা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব কার্ড দুস্থদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। কমিটির উপস্থিতিতে এ কার্ডের চাল বিতরণ করা হয়। নিয়মের বাইরে কিছু করা যাবে না।
চেয়ারম্যানের কথায় সোহাগ ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং পরিষদের সামনে ঝুলিয়ে দেয়ারও হুমকি দেয়। তাকে না দিয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শহীদুল্লাহ্ এমরানকে কার্ড দেয়ায় সোহাগ আরও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সোহাগের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি ফোন করেছিলেন কিন্তু গালিগালাজ করেননি। ফোনকলটি এআই ব্যবহার করে এডিট করে এসব অশালীন শব্দ যোগ করা হয়েছে।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শহীদুল্লাহ্ এমরান জানান, সোহাগ একই ইউনিয়ের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে তাই সোহাগ এমনটি করে থাকতে পারে।
পূর্বধলা থানার কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘জিডির বিষয়টি তদন্তাধীন। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’















