• Home
  • ফিচার
  • বর্ষায় নিকলী হাওরে বেড়াবেন কিভাবে?
Nikli Haor

বর্ষায় নিকলী হাওরে বেড়াবেন কিভাবে?

হাওর বাওর নদনদী  বিধৌত প্রাকৃতিক এক লীলাভূমি কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চল।  বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা  কিশোরগঞ্জ। ১৩ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ জেলা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায় ১৯৮৫ সালে। হাওরের দেখার অনেক কিছুই আছে। আছে ঐতিহাসিক নিদর্শন আর চোখ জুড়ানো ভূপ্রকৃতি।

বছরের একেক সময় কিশোরগঞ্জের হাওর সাজে একেক রূপে। বছরের বর্ষাকালে হাওরে থাকে সারাদেশের পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পর্যটন ছাড়াও কিশোরগঞ্জ হাওর সম্পর্কে বলার অনেক কিছুই  থাকে। 

বর্তমানে এই জেলাটি বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর জেলা হিসেবে নথিভুক্ত। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সরকার এই জেলার চারটি উপজেলাকে হাওর উপজেলা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে  নিকলীকে সরকার পক্ষ থেকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের  হাওর উপজেলাগুলো হলো  নিকলী,ইটনা, মিটামইন,ও অষ্টগ্রাম । এই উপজেলাগুলোর অন্যতম হাওর উপজেলা নিকলী। নিকলী উপজেলাকে হাওর অঞ্চলের প্রবেশদ্বারও বলা হয়। কারণ এই উপজেলার অর্ধেকাংশ উজান এলাকায় এবং অর্ধেকাংশ নিম্নাঅঞ্চলের অংশ।

জেলা শহরসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে এই নিকলী উপজেলার সড়ক পথে সারা বছর যোগাযোগ রয়েছে। বাকি তিন উপজেলা  হাওর উপজেলার সাথে সারা বছর সড়ক পথে যোগাযোগ রক্ষা করা যায় না। বর্ষাকালে ওই তিনটি উপজেলায় পৌঁছানোর একমাত্র বাহন নৌকা।

Haor Baot
নিকলী বেরিবাঁধে সারি সারি নৌকা পর্যটকের জন্য প্রস্তুত। ছবি: সংগৃহীত

তবে সারা বছর যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য তিনটি উপজেলা অষ্টগ্রাম, মিটামইন এবং ইটনা নিয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ কিলোমিটারের অল ওয়েদার এবং ১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

অল ওয়েদার সড়কের সাথে জেলা সদরের কিংবা দেশের অন্যান্য প্রান্তের সংযোগ তৈরি হয়নি। এই অল ওয়েদার সড়কের মাধ্যমে তিন উপজেলার জনসাধারণ সারা বছর যোগাযোগ রক্ষা করে চলে।

অন্যান্য বছর এই হাওর অঞ্চলে জুন মাসেই পুরোদমে বর্ষা। তবে জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা প্রাকৃতিক কারণে এবছর পানির দেখা যেনো মিলছেই না।

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি নিকলী হাওরে প্রবেশের ফলে বর্ষার নতুন পানি আসতে শুরু করেছে।

ইতিমধ্যে নতুন পানিতে হাওর অঞ্চলের ডুবো সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায়  হাওর অঞ্চলে স্থাপিত সরকারি ছয়টি ফেরিঘাট গত ১৮ই জুন থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে যাত্রী সাধারণ এবংপর্যটকদেরকে নৌকা অথবা ট্রলারে করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পুরোদমে বর্ষা   মৌসুম শুরু না হওয়াই  শুধুমাত্র স্থানীয় পর্যটকদের  আনাগোনা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কাঙ্ক্ষিত মাত্রায়  বর্ষার  পানি না আসায় পুরোদমে পর্যটন মৌসুম শুরু হতে আরো ১৫-২০ দিন সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  নিকলীসহ হাওর অঞ্চল বর্তমানে দূরদূরান্তের পর্যটক প্রায় নেই বললেই চলে।

স্থানীয় জনগণ এবং মৌসুমী   ব্যবসায়ীরা জানান এবছর পরিপূর্ণ বর্ষা  না হলে আমাদের বর্ষাকালে ব্যবসা-বাণিজ্য খুবই মন্দা যাবে। নৌকা, ট্রলার ইতিমধ্যেই মেরামত করে প্রস্তুত করে রেখেছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা কিন্তু পানির অভাবে এগুলো পুরো দমে চালাতে পারছেন না।

নৌকাগুলো নদীতে বাঁধা। এই সময় সারা দেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক আসতো কিন্তু এখন পর্যন্ত বর্ষার পানি না আসায় বর্ষা মৌসুম শুরু হয়নি পর্যটকরাও আসছেন না।  ফলে আমরা চোখে মুখে অন্ধকার দেখছি। তারপরেও আমরা আশাবাদী  বৃষ্টির মৌসুম যেহেতু শুরু হয়েছে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বর্ষাকাল শুরু হবে।

Haor Tourist
বেরিবাঁধে নৌকার জন্য অপেক্ষমান পর্যটকের ভিড়। ছবি: হাওরকণ্ঠ

নিকলীর হাওর এলাকা

এই এলাকায় বর্ষাকাল শুরু হলে হাওর এলাকায় যেদিকেই চোখ যায় দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি। থৈ থৈ পানি আর কল কল ঢেউ এ যেন চোখ জুড়িয়ে যায়।  জলরাশির বুকে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর আনন্দই যেন আলাদা। 

বর্ষাকাল শেষ হলে শীতে ভিন্ন এক আমেজ।  সবুজ  মাঠ সোনালী ফসলের প্রকৃতি দেখতে দেখতে মন জুড়িয়ে যায়। এসব নয়নাভিরাম  দৃশ্য দেখতে  যে কেউ আসতে পারেন  শীতকালে  নিকলী উপজেলার হাওর অঞ্চলগুলোতে।

বর্ষাকালে  হাওর অঞ্চলের গ্রামগুলো পানিতে দ্বীপের মতো  ভেসে থাকতে দেখা যায়। ছোট ছোট গ্রাম, স্বচ্ছ জলের খেলা, জাল, নৌকা নিয়ে জেলেদের ব্যস্ততা, ছোট ছোট নৌকা  ও খাওয়ার জন্য হাওরের তরতাজা নানা মাছ পাওয়া যায় এই হাওর অঞ্চলে।

নিকলী হাওর  ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

হাওরের পানির  অপরূপ  সৌন্দর্য  দেখতে চাইলে পর্যটকদের পুরো বর্ষাকাল  শুরু হলে হাওরে আসতে  হবে।  নিকলীসহ কিশোরগঞ্জের পুরো হাওর অঞ্চল  ভ্রমণের উপযুক্ত সময় জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর  মাস পর্যন্ত।

অক্টোবর মাসের শেষের দিকে বর্ষার পানি কমতে শুরু করে, শীতের আগে আগে পানি একেবারে শুকিয়ে যায়। তখন শুধু মাত্র হাওর অঞ্চলে প্রবাহিত নদী গুলোতে  পানি থাকে।  বাকি মাঠ  ঘাট  রবিশস্য, শীতকালীন সবজি এবং সোনালী   ধান চাষের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে।

কিভাবে আসবেন নিকলী হাওর

ঢাকা,  কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ,  নেত্রকোনা, নরসিংদী, গাজীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশপাশ থেকে একদিনে ঘুরে যেতে পারবেন নিকলী হাওর এলাকা । ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে এই দুইভাবেই নিকলী হাওরে আসতে পারবেন।

ঢাকা থেকে ট্রেনে নিকলী হাওর ভ্রমণ

ঢাকা হতে ট্রেনে গিয়ে একদিনে ঘুরে দেখতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই আন্তঃনগর এগারো সিন্ধুর প্রভাতী ট্রেনে আসতে হবে। এগারো সিন্ধুর প্রভাতী বুধবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিন কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে বিমানবন্দর, নরসিংদী ও ভৈরব ষ্টেশন হয়ে কিশোরগঞ্জ আসে। শ্রেণী অনুযায়ী ট্রেনের টিকেট এর মূল্য ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

যদি ট্রেনে আসেন তাহলে সবচেয়ে ভাল হবে কিশোরগঞ্জ শহরে পোঁছার আগের স্টেশন মানিকখালী অথবা গচিহাটা ষ্টেশনে নামলে। ঢাকা থেকে ট্রেনে রওনা দিয়ে আপনি সকাল সাড়ে দশটার  দিকে মানিকখালী ষ্টেশনে চলে আসতে পারবেন। ষ্টেশন থেকে ইজিবাইক, অটো রিক্সা অথবা সিএনজি দিয়ে সহজেই চলে যেতে পারবেন ১৪ কিলোমিটার দূরের নিকলী উপজেলা সদরে।

Haor Water
হাওরে যখন প্রবেশ করে নতুন পানি। ছবি: সংগৃহীত

ইজিবাইকে জনপ্রতি ১০০ টাকা রিজার্ভ নিলে ৩০০টাকা, সিএনজি জনপ্রতি ৬০ টাকা,রিজার্ভ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, অটো রিক্সা জনপ্রতি  চল্লিশ টাকা,রিজার্ভ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা   ভাড়ায় নিকলী যেতে সময় লাগবে প্রায় ৪০ মিনিট  কিংবা এক ঘন্টা।  

তবে ঐ দিনই  ট্রেনে ফিরতে চাইলে বিকাল চারটার মধ্যে মানিকখালী অথবা গচিহাটা রেল স্টেশনে পৌঁছাতে হবে। এবং কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস এ ভ্রমণ করে ঢাকা যেতে পারবেন। কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস মঙ্গলবার দিন বন্ধ থাকে।

ঢাকা থেকে বাসে নিকলী হাওর

ঢাকা থেকে বাসে নিকলী যেতে  চাইলে ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে যেতে পারবেন। গোলাপবাগ থেকে ছাড়ে ‍অনন্যা সুপার, যাতায়াত। মহাখালী থেকে জলসিড়ি, অনন্যা ক্ল্যাসিক কিংবা উজানভাটি কটিয়াদি হয়ে কিশোরগঞ্জ আসে। নামতে হবে কটিয়াদি। চাইলে গুলিস্তান থেকে বাজিতপুরগামী তিশা পরিবহনেও আসতেপারবেন। সেক্ষেত্রে নামতে হবে সরারচর বাজার। প্রায় মানিকখালীর মতো দূরত্ব ও ভড়া হবে।

প্রতিদিন ভোর ৪:৪০ থেকে ২০ মিনিট  পর পর বাস ছেড়ে যায়। বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা। দিনে ঘুরে রাতের মধ্যে ফিরতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই সকাল ৬টার আগেই ঢাকা হতে বাসে রওনা দিতে হবে। যদি হাওরের সকালটাকে উপভোগ করতে চান তবে রওনা করতে হবে ফার্স্ট ট্রিপে।

ঢাকা থেকে কটিয়াদি আসতে অতিরিক্ত জ্যামের কারণে সময় নষ্ট না হলে সময় লাগবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা। সেখান থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বের নিকলী যেতে সিএনজি সবচেয়ে ভালো উপায়। কটিয়াদি বাস স্ট্যান্ডেই সিএনজি সব সময় পাওয়া যায় ।

রিজার্ভ করে গেলে ভাড়া লাগবে ৫০০ টাকা। লোকাল সিএনজিতে যেতে ভাড়া লাগবে জনপ্রতি ৮০ টাকা। কটিয়াদি হতে সিএনএজিতে নিকলী যেতে সময় লাগবে প্রায় ৫০ মিনিট।

যদি কিশোরগঞ্জ জেলা শহর থেকে নিকলী যেতে চান তবে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশন সংলগ্ন নিকলীগামী সিএনজি ষ্টেশনে চলে  যাবেন। কিশোরগঞ্জ সদর থেকে নিকলীর দূরত্ব ২৭ কিলোমিটার। সিএনজি ষ্টেশন থেকে লোকাল বা রিজার্ভ নিয়ে নিকলী যেতে প্রায় ১ ঘন্টা সময় লাগে।

লোকাল যেতে জনপ্রতি ভাড়া ৮০ টাকা আর সিএনজি রিজার্ভ নিতে ৪০০-৪৫০ টাকা ভাড়া লাগে। আবার একরামপুর বাস স্ট্যান্ড থেকেও সিএনজি যোগে ভায়া জয়কা, খয়রত হয়ে নিকলী যেতে পারবেন দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার।  প্রতিদিন কিশোরগঞ্জ শহর থেকে শতশত অটো রিক্সা  নিকলী চলাচল করে।

এছাড়া ভৈরব বাজার থেকেও লোকাল কিংবা রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে নিকলী যাওয়া যায়। লোকালে যেতে জনপ্রতি ভাড়া ১৫০ টাকা আর রিজার্ভ নিলে ৭০০ টাকা। ভৈরব থেকে সিএনজিতে নিকলী যেতে সময় লাগবে দেড় ঘন্টার মতো।

Haor Flood
হাওরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা নিঙ্গ একটি গাছ যেখানে নৌকা বেধে আড্ডা দেযাই যায়। ছবি: সংগৃহীত

দিনে দিনে নিকলী হাওর এলাকা ঘুরে  বাসে যেতে চাইলে অবশ্যই পর্যটকদের সন্ধ্যা সাতটার আগেই কটিয়াদী বাস স্ট্যান্ড, পুলের ঘাট বাস স্ট্যান্ড,কিশোরগঞ্জ শহর বাস টার্মিনাল এ গিয়ে নিজ  নিজ দায়িত্বে পৌঁছতে হবে।

আবার পর্যটকরা ইচ্ছে করলে মোটরসাইকেল,  প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, যাত্রীবাহী বাস নিয়ে নিকলী উপজেলা সদরে আসতে পারবেন। বেসরকারিভাবে গাড়ি পার্কিং করার ব্যবস্থাও আছে।

নিকলী হাওরে কোথায় কি খাবেন?  

নিকলী যেখানে নামবেন সেখানেই মোটামুটি মানের কয়েকটি খাবার হোটেল আছে উপজেলা পরিষদ মোড়ে। তার মধ্যে,আল্লাহর দান হোটেল, রিজিক,  হোটেল সেতু, শাহ সব রেস্টুরেন্ট,। এছাড়াও নিকলী নতুন বাজারে হোটেল সাড়ে বাইশ ও বন্ধু হোটেল উল্লেখযোগ্য উল্লেখযোগ্য। হাওরের তাজা মাছের নানা পদ দিয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় ভরপেট খেতে পারবেন।

নিকলী হাওরে নৌকায় কিভাবে ঘুরবেন?

নিকলী বেড়ীবাধ থেকে প্রতি দিন শত শত নৌকা মিঠাইমনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। চাইলে কেউ রিজার্ভ যেতে পারবেন। গ্রুপে সদস্য কম থাকলে কিংবা বাজে ট্যুর প্ল্যান থাকলে শেয়ার করে ঘুরতে পারবেন। নৌকাভেদে শুক্রবার ও শনিবার ভাড়া পড়বে ৭-১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। শুক্রবার ছাড়া অন্য যে কোন দিন ৩৫০০ থেকে ৮ হাজার টাকায়ও ঘুরতে পারবেন।

সারাদিনের জন্য ট্রলার রিজার্ভ করে নিলে নিকলীর ছাতিরচর ইউনিয়নের করস বাগান, মিঠামইন উপজেলা সদর যেতে পারবেন। সেখান থেকে অটো রিক্সাযোগে অষ্টগ্রাম এবং ইটনা ঘুরে  আসতে পারবেন এই সময়ের মধ্যে। তবে বৈরী আবহাওয়া এবং উত্তাল ঢেউ থাকলে  থাকলে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

বিশাল জলরাশি  দেখতে দেখতে দু’চোখ জুড়িয়ে নেয়ার পাশাপাশি শীতল জলে গা ঢুবিয়ে শরীর শান্ত করার কাজটা এখানেই সেরে ফেলতে পারেন। তবে ভরা বর্ষায় পানি অনেক বেশি থাকে। তাই গোসল করতে চাইলে সাথে করে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট নিয়ে যাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সাঁতার না জানলে জলে নামাটা বিপজ্জনকও হতে পারে। সেক্ষেত্রে জলে না নামাই ভালো।

ছাতিরচরের করস বাগানে গেলে দেখবেন পানির মধ্যে  করস গাছগুলো  ডুবে আছে। উপরের অংশ পানির উপরে। করস গাছ এমন একটি গাছ বর্ষাকালে পানিতে বেঁচে থাকতে পারে এবং শুকনা মৌসুমে ও বেঁচে থাকতে পারে।  উন্মুক্ত হাওরে শেষ বিকেলের সূর্য দেখতে দেখতে বেলা শেষে নিকলী বেড়ি বাঁধে এসে বাড়ি ফেরার পথ ধরতে পারবেন।

নৌকায় নিকলী, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম,ইটনা  ভ্রমণ শুধুমাত্র বর্ষাকালেই করা সম্ভব। শুকনো মৌসুমে নৌকায় ভ্রমণ সময় সাপেক্ষ এবং কঠিন।

নিকলী হাওরে  রাত্রি যাপন ব্যবস্থা

পর্যটকদের কথা ভেবে নিকলীতে বর্তমানে কিছু মোটামুটি মানের আবাসিক হোটেল তৈরি হয়েছে। নিকলী বেড়িবাঁধের কাছেই আলম রিসোর্ট, চেয়ারম্যান গেস্ট হাউজ ছাড়াও আরও কিছু মোটামুটি মানের আবাসিক হোটেল আছে।

তবে পর্যটকদের আগমন অনুযায়ী হোটেলগুলো পর্যাপ্ত নয়।  এছাড়া সুযোগ থাকলে উপজেলা ডাক বাংলোতেও থাকতে পারবেন। যদি নৌকায় বা ক্যাম্পিং করে রাত পার করতে চান তবে নিরাপত্তার বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে।

সেক্ষেত্রে স্থানীয় কারও সাহায্য নিতে পারেন। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের  সহযোগিতা,পর্যটন পুলিশের সহযোগিতায়  নিতে পারবেন। তবে নিকলীতে পর্যাপ্ত হোটেল না থাকায় বেশিরভাগ পর্যটকরা কটিয়াদি কিংবা কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের হোটেলগুলোতে রাত্রি যাপন করতে পারেন।

নিকলীর বেড়িবাঁধ এলাকা  কতটুকু বিস্তৃত?

Haor Sunset
হাওরের মায়াবী সূর্যাস্ত। ছবি: সংগৃহীত

নিকলী সদর ইউনিয়নের  কুর্শা গ্রামের ব্রিজ থেকে উপজেলা পরিষদের  সামনে দিয়ে  বেড়িবাঁধ শুরু হয়ে মোহরকোনা গ্রাম  পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার।  তাই  হেটে অথবা অটো রিক্সা দিয়ে দেখা যাবে তার সৌন্দর্য।

পর্যটকদের আইনগত সেবা

বর্ষা মৌসুমে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে নিকলী উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, এবং পর্যটন পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।  ছিনতাই ডাকাতি, অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে কাজ করছে। গত ২০মে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার  ড. মিজানুর রহমান নিকলী  পর্যটন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

পর্যটকদের ভ্রমণে  সতর্কতা অবলম্বন

সাঁতার না জানলে পানিতে না নামাই উত্তম। হাওরে বৈরী আবহাওয়া, উত্তাল ঢেউ উঠলে  মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও  ইটনা নৌকা যুগে ভ্রমণ না করা উচিত। যেকোনো সময় নৌকা অথবা ট্রলার উল্টে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।  সরকারি বন্ধের দিনগুলোতে  সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায়  নিকলী হাওরে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যায়।

বন্ধের দিনগুলোতে মাইক্রোবাস প্রাইভেট কার বেশি পরিমাণে আসার কারণে  নিকলী করগাও সড়কে ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার রাস্তায়  প্রচন্ড যানজটের সৃষ্টি হয়। এই রোডটিকে বলা চলে নিকলীতে প্রবেশের একমাত্র রাস্তা।

রাস্তাটির প্রস্থ মাত্র ১০ ফিট।  ফলে অনেক সময় পর্যটকদের কে পায়ে হেঁটে যানজট এলাকা পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়। জানা গেছে করগাও ও নিকলী সড়ক সরু থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি  পর্যটক যাতায়াতকারী রাস্তাগুলো প্রশস্ত করা হলে স্থানীয় জনগণ এবং পর্যটকদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে।

সম্প্রতি হাওর এলাকার প্রশাসন  পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে  নৌকা বা ট্রলার চলাচল সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত শিথিল  করেছেন। মিঠামইন উপজেলা হতে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ধ্যা ছয়টার পর কোন প্রকার নৌকা বা ট্রলার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলাচল করবে না।

ট্রলার চলাচল শিথিল করায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন হাওর অঞ্চলের অনেক  মানুষ। অনেকে বলছেন নৌকা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা নাকি  নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য হাওর অঞ্চলে নৌ পুলিশের টহল জোরদার করা  দরকার।

Releated Posts

বর্ষায় নাও, হেমন্তে পাও এ হলো নিকলীর বাও

হাওর মানেই জলে ভাসা জনপদ। বছরের প্রায় সাত মাস হাওর অঞ্চলের গ্রামগুলো জলের ওপর ভাসতে থাকে! তখন সবুজ-শ্যামল…

নিকলী হাওর কেন পর্যটকশূন্য?

কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওরে বর্ষা এলেই একসময় হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর থাকতো। বিস্তীর্ণ  জলরাশি, দৃষ্টিনন্দন বেড়িবাঁধ আর ট্রলারে ভ্রমণের…

কী কী দেখবেন কিশোরগঞ্জ হাওরে?

প্রকৃতির অপার্থিব সৌন্দর্য আর রূপের লীলাভূমি হাওর। সারা বছর ঋতু ও সময়ের ব্যবধানে রূপ বদলায়। হাওর। কিশোরগঞ্জ হাওর…

দিল্লির আখড়া: সাড়ে চারশ’ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী

ইতিহাস সময়ের এক দর্পন। এই দর্পনের সামনে দাঁড়িয়েই আমরা দেখি ঐতিহাসিক বাস্তবতা। বাংলার সমৃদ্ধ ইতিহাস ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক

সর্বাধিক পঠিত