রোদ বাড়ছে, সাথে হাওরের কৃষকদের হতাশা। বছরের একমাত্র ফসল বোরো ধান গেলো, রেখে গেলো ঋণের বোঝা। একেক কৃষকদের জমির পরিমাণ অনুযায়ী ধার করতে হয়েছে টাকা। বছর শেষে এই ঋণ শোধ হবে তো?
ঋণ শোধ হবে কি হবে না জানে না মাঠের কৃষক। তবুও অজানা আশায় তলিয়ে যাওয়া ধানের কিছু মাত্র ঘরের তোলার যুদ্ধটা চালিয়ে যাচ্ছে অবিরাম। হাওরে এমনও অনেক কৃষক আছেন যাদের শেষ সম্বলটুকুও নেই।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে ঘরে সামান্য ধান তুলেও কৃষকের মুখে নেই হাসি। ভালো ফলনের আশায় ধারদেনা করে চাষ করলেও এক নিমিষেই যেনো ভেসে গেলো স্বপ্ন। পাওনাদারের চাপে অতিষ্ঠ বেশিরভাগ কৃষক।
কৃষকদের সমস্যা যতটা প্রকট তার চেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত বর্গাচার্ষীরা। ফসল না পেয়ে জমির খরচ ও ঋণের দায় থেকে মুক্তি নেই তাদের। হাওরের কৃষকদের ধারদেনার মূল উৎস এনজিও থেকে নেয়া ঋণ। কেউ কেউ মাসিক সুদের হিসেবেও ঋন নিয়ে থাকেন।
হাওরের কৃষকদের মাঝে সুনামগঞ্জেই কোটি কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছেন এনজিওগুলো। কৃষক নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে এনজিও মাঠকর্মীরা বলছেন, কেউ না পারলে অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে।
প্রশ্নের এমন উত্তরে কৃষকের সমস্যা সমাধানের কোন উপায় খুঁজে পাওয়া যায় না। সুনামগঞ্জে হাওর ও কৃষকদের জন্য কাজ করছে হাওর বাঁচাও আন্দোলন নামের একটি সংস্থা। খুব দ্রুত কৃষকদের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান সংস্থাটির নেতা চিত্তরঞ্জন তালুকদার।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যাচা বাছাই শেষে খুব শিগগির প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার। এ পর্যন্ত ৯৮ হাজার কৃষকের তথ্য সংগ্র সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা খাদ্য বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জে ২১ হাজার ৩৪৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার কৃষকের কাছ থেকে ৩৬ টাকা কেজি বা ১ হাজার ৪৪০ টাকা মণ দরে ধান কিনছে। তবে কাঙ্খিত ফলন না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের আহরণ ও ব্যয়ন কর্মকর্তা বি এম মুশফিকুর রহমান বলেন, ৩ মে থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। আমরা শুকনা ও ভালো মানের ধান সংগ্রহ করি। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে কৃষকেরা ভেজা ধান নিয়ে আসছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে কৃষকেরা শুকিয়ে ধান দিতে পারবেন বলে আশা করছি।
















