মাগুরায় অভাবের দোহাই দিয়ে একমাস বয়সী শিশুকে বিক্রি করে দিয়েছেন এক লম্পট বাবা। বিক্রির পর মেয়েকে জ্বিনে নিয়ে যাওয়ার মিথ্যে গল্প বলে স্ত্রীকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। বাড়িতে জ্বিন তাড়ানোর জন্য ওঝা, কবিরাজ ডেকে অনেক নাটকও সাজিয়েছিলেন। শেষে ২২ দিন পর উদ্ধার শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ।
মাগুরা জেলার সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার রাতে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন।
পুলিশ সুপার বলেন, গত ২৭ মে ঈদের আগের দিন রামদেবগাতী এলাকার এক লম্পট বাবা সাগর হোসেন (৩৪) তার নবজাতক টুকটুকিকে নগদ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। সদর উপজেলার দক্ষিণ বীরপুর এলাকার মো. শাহাবুর (২৮) এক মাস বয়সী টুকটুকিকে ২৫ হাজার টাকায় দত্তক হিসেবে নেন।
অন্যের স্ত্রীকে নিজের স্ত্রী সাজিয়ে শিশুটিকে বিক্রি করেন সাগর। তিনজন মধ্যস্ততাকারীর সহায়তায় শাহাবুরকে সাগর বুঝানোর চেষ্টা করেন তার স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসার খরচ যোগাতে না পেতে শিশু কন্যাকে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
অপরদিকে টুকটুকিকে জ্বিনে নিয়ে গেছে বলে নিজের স্ত্রীকে সান্তনা দেন সাগর। ওঝা কবিরাজের মাধ্যমে শিশুকে ফিরিয়ে আনার নানা নাটকীয়তাও করেন। অবুঝ মা বুধবার শত্রুজিৎপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) শুভংকর রায়কে বিয়টি অবহিত করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্সের সহায়তায় বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে শাহাবুর ও মনিরা দম্পতির হেফাজত থেকে শিশু টুকটুকিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, দারিদ্র্য কখনোই সন্তান বিক্রির অজুহাত হতে পারে না। এটি জঘন্য ও দণ্ডনীয় অপরাধ। শাহাবুর দম্পতি এক লম্পট বাবার কাছ থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে বাচ্চা কিনেছিলেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।















