বিএনপির বিদ্রোহীর প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় কিশোরগঞ্জ-৫(নিকলী-বাজিতপুর) আসনে ১৩ বিএনপি নেতাকে বহিস্কার করা হয়ছে। ঐ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটের লড়াই করছেন শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বহিস্কৃতরা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দলে নিষিদ্ধ হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এর আগে বহিষ্কার করা হয় বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে। পরে ২৬ জানুয়ারি দলের ১৭ নেতাকর্মী ও পরে ১৩ জনকেসহ এই আসনে মোট ৩১জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
নিকলী-বাজিতপুর আসনে ‘হাঁস’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দীতা করছেন ইকবাল যার বিপরীতে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে লড়ছে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা। উল্লেখ সৈয়দ এহসানুল হুদা তার বাবার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন।
দলীয় সূত্রমতে, বহিস্কৃতকরা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণায় অংশ নিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে। আর সে কারণেই তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। প্র্রাথমিকভাবে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হলেও পরে তা বাতিল করে সৈয়দ এহসানুক হুদাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয়।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মামনুন রহমান, মাইজচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, গাজীরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ভূঁইয়া, হিলোচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির, কৈলাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, নিকলী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মাসুক মিয়া ও এখলাসুর রহমান, সহসভাপতি হারুন উর কাইয়ুম, সদস্য বদরুল আলম, কারপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ, জারইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ইসহাক মেম্বার।
বহিস্কারের মাধ্যমে ভারমুক্ত হয়েছেন বলে জানান বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বিজয়ী করেই ঘরে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অপরদিকে বহিস্কৃতরাই আশীর্বাদ বলে জানান বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। তবে কোন মন্তব্য করেননি বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা।
এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনাত কাইয়ুম (হরিণ), জামায়াতে ইসলামীর মো. রমজান আলী (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের মো. দেলাওয়ার হোসেন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মো. মাহবুবুল আলম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. সাজ্জাদ হোসেন (হারিকেন), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. অলিউল্লাহ (মোমবাতি)।

